রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

নারী নির্যাতন বন্ধে করণীয়

এইচ এম আব্দুর রহিম : সমাজে অন্যায় অপকর্ম ঘটে, তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য আর জঘন্যতম হচ্ছে ধর্ষণ। বর্তমানে ছয়মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে কিশোরী, তরুণী; এমনকি মধ্য বয়সী নারীরাও ধর্ষকের হাত থেকে নিরাপদ নয়। কিছু দিনপর পর এখানে-ওখানে, ঘরে বাইরে, বাসে, রাস্তায়, স্কুলে, কলেজে, মাদ্রাসায় ও কর্মস্থলে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটে চলেছে। এর প্রতিকার আসলে কি? এর শেষ-ই বা কোথায়? সাম্প্রতিক সময়ে নারী শিশু ধর্ষণ, হত্যার মত লোম হর্ষক ঘটনা দেশকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।
দেশে একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। অথচ ক্ষমতার রাজনীতি সাফাই গাইতে ব্যস্ত। জনগণের মধ্য থেকে যে প্রতিবাদ হচ্ছে তা জোরালো নয়। এই অবিমৃশ্য পরিস্থিতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে শিশু ধর্ষণ ও ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানির কলাবাগানে বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গিয়ে ‘ধর্ষণের পর হত্যা’র শিকার ঘটনাটি মানুষের হৃদয়েনাড়া দিয়েছে।
রাজধানীর কলাবাগানে একটি ইংলিশ মিডিয়াম মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’লেভেলের ছাত্রী আনুশকা নুর আমিনের ধান মন্ডির বাসা থেকে কলাবাগান এলাকায় বন্ধু ফারদিন ইফতেখার দিহানের বাসায় যান দেখা করতে। সেখানে কি হয়েছে, আমরা জানি না, তবে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। কিন্তু আমরা দেখি। অচেতন আনুশকাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান দিহান। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগে যৌনিদ্বার, পায়ু পথে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, দিহানের সঙ্গে আনুশকার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। নিহত ছাত্রীর পরিবার বলছে, তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি বর্বর লোমহর্ষক ঘটনা যা কোন ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনাটি আমাদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে। বন্ধুত্ব কিংবা প্রেমের ব্যাপকার্থে তাৎপর্যপূর্ণ গভীরতা এ প্রজম্মের কত সংখ্যক ছেলেমেয়েরা মননে -চেতনায় উপলব্ধিতে উপস্থিত, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তথা কথিত বন্ধুত্ব ও প্রেমের নামে আমাদের সমাজে কি বৈরি পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, এর জের ধরে শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে কি বীভৎস ঘটনাও ঘটছে, এরই সর্বশেষ নজির আনুশকা। বুঝে কিংবা না বুঝে আনুশকা এমন এক ফাঁদে পা দিয়ে ছিল, যা শেষ পর্যন্ত মানুষরূপী দানবের ছোবলে আক্রান্ত হতে হল তাকে। নিভিয়ে দিল জীবন প্রদীপ। এ রকম জঘন্য, বর্বরোচিত ঘটনা এই যে প্রথম ঘটল, তাও তো নয়। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এদিকে ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেন্বরের শেষ পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৬২৬ জন শিশু। এ তথ্য সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এমজেএফ। ২০২০ সালে বাল্য বিবাহ ৬০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০ সালে à§§à§© থেকে à§§à§® বছরের শিশুরাই বেশী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শিশুদের চকলেট বা খাবারের লোভ দেখিয়ে, মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে, ঘরে একা পেয়ে নিকটতম লোকের বেশী ধর্ষণ করেছে। এমন কি ত্রাণ দেওয়ার কথা বলেও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে কেন ধর্ষণের মত পৈশাচিক ঘটনা? এ ক্ষেত্রে দেশের আইনে শাস্তির বিধান কি অপরাধ বিবেচনায় কম? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিভিন্ন দেশের আইন অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ভারত, ইরান, চীন, গ্রিস, রাশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তবে যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়েসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে সর্বোচ্চ শাস্তি ৩০ বছরের কারাদন্ড। আর বাংলাদেশে বিধ্যমান আইনে শুধু ধর্ষণের ঘটনায় সর্ব্বোচ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড। তবে ধর্ষণের ফলে ধর্ষিতার মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। গোপাল গঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে। বাস্তবতা বলে ধর্ষণের বিরুদ্ধে না আছে আইন, না আছে আইনের প্রয়োগ। আর যে সব অপরাধের সাথে রাজনীতির সম্পৃক্ততা আছে, সেখানে কাকে ধরা হবে আর কাকে ছাড়া হবে তা ঠিক করা হয় রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ থেকে। এক অনুসন্ধ্যানে দেখা গেছে যে, নারী নির্যাতনের বেড়ে যাওয়ার কারণ যে বিচারহীনতা, সে কথা বলার অফেক্ষা রাখে না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলার শাস্তি হয় মাত্র à§© ভাগের ; বাকি ৯৭ ভাগ মামলার আসামীরা শাস্তির বাইরে থেকে যায়। ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধিরা মনে করেন যে তাদের কিছু হবে না। পার পেয়ে যাবেন। যে কারণে অপরাধ কমছে না। বরং আরো বাড়ছে। দেশে ধর্ষণের শাস্তি কি তা বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৬৭ ধারায় বলা হয়েছে। এই ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারা দন্ড। এই ধারায় আরো বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে অথবা দশ বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদন্ডে ও দন্ডিত হবে, যদি ধর্ষিতা স্ত্রী লোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় এবং সেই স্ত্রী ১২ বছরের কম বয়স্কা না হয়। আর যদি ধর্ষণের শিকার নারীটি তার স্ত্রী, যার বয়স বার বছরের কম, তবে সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি দুই বছর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রমে কারাদন্ডে অথবা অর্থদন্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডেই দন্ডিত হবে। এছাড়া নারী শিশু নির্যাতন আইন ২০০০ এর ৯ ধারায় ও ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের কথা বলা আছে। তবে এ আইনে ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের কথা বলা আছে। ৯(à§§) ধারায় বলা  হয়েছে, যদি কোন পুরুষ কোন নারীকে বা শিশু কে ধর্ষণ করেন, তাহা হলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং  অতিরিক্ত অর্থদন্ডে ও দন্ডনীয় হইবেন। এরপর ৯(২) ধারায় আছে, যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা ধর্ষণ-পরবর্তী তাহার অন্য বিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যু দন্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন একলাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন। এছাড়া ৯(à§©) ধারায় আছে, যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশু মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন একলাখ টাকা অর্থ দন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন। (৪) যদি কোন ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে (ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানো বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্তঅর্থ দন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।
কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় অধিকাংশ মামলা পার পেয়ে যাচ্ছে। হাইকোর্টের এ রায়ের পর বাংলাদেশ বিশ্ব বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জিসিইউ একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে দেশের সরকারি বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়ে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলে ও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। তাই এখন যৌন নির্যাতন বন্ধে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ব বিদ্যালয় পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি কমিটি গঠনে রাষ্ট্রের কঠোর নির্দেশ প্রয়োজন।
হাই কোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, কমিটিতে à§« জন সদস্য থাকবে। এই কমিটির বেশীরভাগ সদস্য হবে নারী। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে থেকে দুজন সদস্য নিতে হবে। সম্ভব হলে একজন নারী কে কমিটি প্রধান করতে হবে। যাতে মেয়েরা তাদের অভিযোগগুলো মহিলাদের কাছে পেশ করতে পারে।  সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষা বর্ষের পাঠদান কার্যক্রমের শুরুতে এবং প্রতিমাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওরিয়েন্টশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সংবিধানের বর্ণিত লিঙ্গীয় সমতা ও যৌন নিপীড়ন সম্পর্কিত দিক নির্দেশনাটি বই আকারে প্রকাশ করতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশনাটি আইনে রুপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংবিধানের à§§à§§à§§ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নির্দেশনাই আইন হিসাবে কাজ করবে এবং সব সরকারি বে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। হাই কোর্টের রায়ে যৌন নিপীড়নের সংজ্ঞায় বলা হয়, শারীরিক ও মানসিক যে কোনো ধরনের নির্যাতন যৌন হয়রানির মধ্যে পড়ে। ই-মেইল, এসএমএস, টেলিফোনে বিড়ন্বনা, পর্নোগ্রাফি, যে কোন ধরনের অশালীন চিত্র, অশালীন উক্তিসহ কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলা ও যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। এদিকে বিচারধীন কিছু মামলার দ্রুত সুরাহার ক্ষেত্রে সুপ্রীম কোর্ট বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে নির্দিষ্টভাবে নারী নির্যাতন মামলা নেই। দেশের প্রায় ১০ ধরনের ট্রাইবুনাল করা সব ধরনের মামলারর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাই উচ্চ আদালতের নির্দেশে সব থেকে বেশী স্থগিত থাকছে। বর্তমানে à§§ লাখ ৬০ হাজার ৭৫১টি বিচারধীন নারী নির্যাতন মামলার মধ্যে ৯৪৯টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। বিচারহীনতার দিক থেকে নারীরা সব থেকে পিছিয়ে আছে। সারা দেশের দেওয়ানি ও ফোজদারি মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়। সারা দেশে সব ধরণের ফৌজদারি অপরাধের দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে তুলনায় দেখা যায়, নারীদের মামলা গুলোর বিচার হতে বেশী সময় লাগে। ২০১৮ সালের ৮মার্চ থেকে ২৩ শে মের একটি প্রথম আলোর ছয় পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিদেনে দেখানো হয়, দেশে সব অপরাধের মামলায় দন্ড লাভের গড় হার à§§à§« শতাংশের বেশী। অথচ ঢাকাতেই নারী নির্যাতনের ছয়টি অপরাধের মামলায় সাজার হার à§© শতাংশের কম। এই পরিসংখ্যান কিন্তু পক্ষান্তরে নারীর মামলাতেই উচ্চ আদালতের স্থগিতকরণের হারটা বেশী, তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। বর্তমান দেশের ৬৪ জেলায় ৫৮টি ট্রাইব্যুনালে পাঁচ বছরের বেশী সময় ধরে চলমান নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা à§©à§­ হাজারের বেশী। দেশের à§«à§® জেলায় পৃথক নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল থাকলে ও ৬টি জেলায় আলাদা কোন ট্রাইবুনাল নেই। সুতারাং ২০০০সালের আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।
বিচার যত বিলন্ব হবে, তত সাক্ষীর স্মৃতিভ্রম, প্রমাণের ক্ষয় ঘটে, আবার এর মধ্যে কেউ মারা যেতে পারে। ফলে বাদী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন আর আসামী আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। এখানে বিশ্বের কয়েকটি দেশের প্রচলিত আইনে ধর্ষণের শাস্তি ও এর প্রয়োগ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো। এবার অন্যান্য দেশের আইনের প্রতি দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাব ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। ভারতে ২০১৩ সালে ধর্ষণের শাস্তি আগের চেয়ে কঠোর করা হয়েছে। দেশটিতে বিশেষ ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ড দেয়া হচ্ছে যে সচরাচর সাত থেকে ১৪ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
চীন : এশিয়ার বৃহৎ দেশ চীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড। তবে কিছ কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ধষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়।
ইরান : এশিয়ার আরেক দেশ ইরানে সাধারণত ধর্ষককে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলী করে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ধর্ষিতার অনুমতি নিয়ে ধর্ষক কে জনসম্মুখে ১০০ দোররা (চাবুক) মারা অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ড।
গ্রিস : গ্রিসে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি মৃত্যু দন্ড। আর এ শাস্তিকার্যকর করা হয় আগুনে পুড়িয়ে।
মিসর : মিসরের জনাকীর্ণ এলাকায় জন সম্মুখে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকরা হয়।
উত্তর কোরিয়া : উত্তর কোরিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে মাথায় গুলী করে এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।
আফগানিস্থান : আফগানিস্থানে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। আদালতের রায়ের চার দিনের মধ্যে ধর্ষকের মাথায় গুলী করে এই রায় কার্যকর করা হয়।
সৌদি আরব : সৌদি আরবে ধর্ষকের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি মৃত্যুদন্ড। জনসম্মুখে ধর্ষকের শিরñেদ করে সাজা কার্যকর করা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত : সংযুক্ত আরব আমিরাতে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদন্ড। রায়ের সাত দিনের মধ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। ফ্রান্স ধর্ষণের শাস্তি কি তা ভিকটিমের ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার ওপর নির্ভর করে। সেখানের সাজা ৩০ বছরের কারাদন্ড থেকে আমৃত্যুকারাদন্ড।
নেদারল্যান্ডস : নেদারল্যান্ডসে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে চার থেকে ১৫বছর পর্যন্ত কারাদন্ড দেয়া হয়। ওই দেশে যে কোন ধরণের যৌন নিপীড়ন, অনুমতি ছাড়া জোর করে চুন্বন এ ধরণের অপরাধ হিসেবে শাস্তি দেওয়া হয়।
রাশিয়া : বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়ায় ধর্ষণের শাস্তি তিন থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড।
যুক্তরাষ্ট্র : বিশ্বের শীর্ষ শক্তিধর রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুই ধরণের আইন প্রচলিত আছে। এগুলো হলো অঙ্গরাজ্যে আইন এবং ফেডারেল আইন। ফেডারেল আইনে মামলা হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়। তবে অঙ্গরাজ্য আইনে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক রকম শাস্তি। নরওয়ে ধর্ষণের সাজা হয় ১৫ বছর কারাদন্ড। ইসরাইল ইসরাঈলে ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদন্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ